‘সালাত’ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো, দোয়া করা, কারো দিকে মুখ করা, অগ্রসর হওয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা,দয়া করা, দরুদ পাঠ করা, রহমত, ইসতিগফার ইত্যাদি। শরিআতের পরিভাষায়, আল্লাহতাআলার নির্দেশিত বিশেষ একটি ইবাদত যা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রদর্শিত বিধিবিধান মোতাবেক রুকু সিজদাসহকারে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করা হয়, তাকে সালাত বলা হয়। -
কাওয়াইদুল ফিকহ, সায়েদ মুফতি মুহাম্মদ আমীমুল ইসলাম, পৃঃ ৩৫১সালাতকে নামাজও বলা হয়। নামাজ ফারসি শব্দ। ইসলামে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয় স্তম্ভ। সালাত কুরআন, হাদিস এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত সর্বসম্মত একটি ফরজ। নামাজকে দ্বীনের খুঁটি বলা হয়েছে। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তেমনি নামাজ ব্যতিরেকে দীন পরিপূর্ণ হয় না। প্রত্যেক বালেগ, সুস্থ ও জ্ঞানবাদ পুরুষ ও মহিলার ওপর নামাজ ফরজে আইন। শরিআসম্মত ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ তরক করা কবিরা গুনাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মক্কি জীবনে মিরাজের সময় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। ঈমানের পরই সালাতের স্থান। নামাজের ফরজিয়াতকে অস্বীকার করলে সে কাফের বলে গণ্য হবে। একজন লোকের ঈমানের মান ও বাস্তবরুপ প্রকাশ পায় তার সালাত আদায়ের মাধ্যমে।
সালাত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের কয়েকটি উদ্ধৃতি এরূপঃ
১. নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে।যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত। আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিশয় কৃপণ। সলাত আদায়কারীগণ ছাড়া, (সূরা মা’আরিজঃ ১৯-২২)
২. কখনো নয়, তুমি তার আনুগত্য করবে না। আর সিজদা কর এবং নৈকট্য লাভ কর। (সূরা আলাকঃ১৯)
৩. অতএব সেই সলাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ,যারা নিজদের সালাতে অমনোযোগী,যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে, (সূরা মাউনঃ ৪-৬)
৪. তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর এবং সলাত কায়েম কর। নিশ্চয় সলাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর। (সূরা আনকাবুতঃ৪৫)
৫. আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন। (সূরা বাকারাঃ৪৫)
৬. আর তোমরা সলাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর। (সূরা বাকারাঃ ৪৩)
৭. তোমরা সলাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর এবং আল্লাহর জন্য দাঁড়াও বিনীত হয়ে। (সূরা বাকারাঃ ২৩৮)
৮. আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সলাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমিই তোমাকে রিযিক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা ত্বাহাঃ ১৩২)
৯. যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। (সূরা মুমিনুনঃ১-২)
১০. মুমিন ও কুফরের মধ্যে সালাত হলো পার্থক্যকারী। (বুখারী শরীফ)
১১. দীন ইসলামের সমগ্র বিধানটি এ নামাজের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। মাহান আল্লাহর বাণী হতে একথার প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দাদের বল, ‘যারা ঈমান এনেছে, তারা যেন সলাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, ঐ দিন আসার পূর্বে যে দিন কোন বেচা-কেনা থাকবে না এবং থাকবে না বন্ধুত্বও।" (সূরা ইব্রাহীমঃ৩১)
১২. আরো বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ, তোমরা রুকূ’ কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদাত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে। (সূরা আল-হাজ্জঃ৭৭)