নামায আদায় করার জন্য অযূ ফরজ ,এছাড়া এবাদত বন্দেগী করার জন্য ওযুর গুরুত্ব অপরিসীম । সঠিক পদ্ধতিতে অযূ না করলে নামাজ তথা এবাদত বন্দেগী কবুল নাও হতে পারে ,বিশেষ করে যে সকল ক্ষেত্রে অজু ফরজ সেক্ষত্রে সঠিক নিয়মে অযু না করলে এবাদত কবুল হবেনা।
অযু তিন প্রকার :
১. ফরজ অযু- নামাজ আদায় করার জন্য অযু করা ফরজ
২. ওয়াজিব অযু- বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফের জন্য অযু করা ওয়াজিব।
৩. মুস্তাহাব অযু – পবিত্র অবস্থায় অযু করা, ঘুমানোর জন্য অযু করা , এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পরে অযু করা।
অযুর পদ্ধতি :
ওযুর পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কালামে পাকে দিয়েছেন এভাবে:
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য তৈরি হও, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টি গোড়ালি পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। (সূরা ৫ মায়েদা : আয়াত ৬)
অযূর ফরয চারটি :
১. সমস্ত মুখমন্ডল ধোয়া (মাথার অগ্রভাগের চুলের গোড়া হতে থুতনীর নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অপর কানের লতি পর্যন্ত )
২. দু’হাতের কনুইসহ একবার ধোয়া।
৩. মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা।
৪. দু’পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা।
উল্লেখিত অংগ সমূহের কোনো একটি হতে যদি এক চুল পরিমান জায়গা শুকনা থাকে তাহলে অযু হবেনা। যদি দাড়ি ঘন হয় তাহলে দাড়ির উপরিভাগ সম্পুর্ন রূপে ধৌত করা ফরজ। আর যদি দাড়ি পাতলা হয় তাহলে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ।
অযুর সুন্নত সমূহ :
১. নিয়ত করা।
২.বিসমিল্লাহ বলে অযু শুরু করা।
৩.উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা।
৪. মেসওয়াক করা।
৫.গরগরা সহ ভালোভাবে কুলি করা।
৬.নাকে পানি দেওয়া।
৭. দাড়ি খিলাল করা।
৮.পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা।
৯.মাথা ব্যতীত অযুর অন্যান্ন অঙ্গ সমূহ তিনবার ধৌত করা।
১০. উভয় কান মাসেহ করা।
১১. হাত – পা ধৌত করার সময় অঙ্গ গুলার অগ্রভাগ থেকে শুরু করা।
১২.মাথা মাসেহ করার সময় মাথার সম্মুখভাগ হতে মাসেহ শুরু করা।
১৩.গর্দান মাসেহ করা।
১৪.অযুর অঙ্গ সমূহ এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বেই অপর অঙ্গ ধৌত করা।
১৫.দান দিক থেকে অযু আরম্ভ করা।
অযূ শুরুর দোয়া :
আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এমন এক সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি ওযু করছিলেন এবং তাঁর যবান মুবারক থেকে এ দোয়া উচ্চারিত হচ্ছিল : “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। আমার ঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দান করুন।” (আন-নাসায়ী)
অযূ শেষের দোয়া :
উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্নের পর নিম্নলিখিত দোয়া করে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়েই ইচ্ছা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)
দোয়াটি নিম্নরূপ :
আশহাদ আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শরীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ্’আলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ’আলনী মিনাল মুতাত্বহ্হেরীন।
বাংলা অর্থ :
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী লোকদের মধ্যে শামিল করুন। (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)
অযূ ভঙ্গের কারণ সমূহ :
১.পায়খানা প্রস্রাব করা বা পায়খানা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়া কোন কিছু বের হওয়া।
২.গুহ্যদ্বার হতে বায়ু নির্গত হওয়া।
৩.গুহ্যদ্বার হতে কোনো বস্তু বের হওয়া।
৪. শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত, বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
৫.মুখ ভরে বমি করা।
৬.কাম-রস বের হওয়া।
৭.শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত, বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
৮.থুথুর সাথে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।
৯.চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া।
১০.পাগল, মাতাল, অচেতন হওয়া।
১১.নামাযে উচ্চস্বরে হাসা।